আমরা সবাই জানি যে মহাভারতের যুদ্ধ কৌরব পান্ডবের মধ্যে হয়েছিল এই যুদ্ধে সমস্ত যোদ্ধা রথী-মহারথী সবাই মিলিয়ে প্রায় 50 লাখের বেশি যোদ্ধা ছিল এমন কোন রাজ্য ছিল না যারা এই যুদ্ধে ভাগ নেয় নি
কিন্তু প্রশ্নটা হল যুদ্ধ চলাকালীন এত বড় সৈন্যদলের জন্য খাবার বন্দোবস্ত কে এবং কিভাবে করতো
?? তার থেকে বড় প্রশ্ন হলো যখন প্রতিদিন হাজার হাজার সেনা মারা যেত তখন কি হিসেবেই বা রান্নাটা করা হত?

আমরা সবাই জানি মহাভারতের যুদ্ধে সমস্ত রাজ্য ভাগ নিয়েছিল শুধুমাত্র রুক্মিণী এবং প্রভু বলরাম ছাড়া। কিন্তু এমন এক রাজ্য ছিল যেটা যুদ্ধক্ষেত্রে থাকাকালীন যুদ্ধে কোন রকম ভাগ নেয়নি সেটি ছিল দক্ষিণের একটি রাজ্য যার নাম উদুপি. মহাভারতের কথা অনুযায়ী যখন উদুপির রাজা
নিজের সেনা সমেত কুরুক্ষেত্র তে গিয়ে পৌঁছায় তখন কৌরব এবং পান্ডব দুজনেই তাদের নিজের পক্ষে রাজ্যকে নিতে চায় কিন্তু উদুপির রাজা খুবই দূরদর্শী ছিলেন তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন হে মাধব দুই দিক থেকেই দেখি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত কিন্তু কেউ কি এইটা ভেবেছে যে দুই দিকে উপস্থিত এই বিশাল সৈন্যের খাবারের
বন্দোবস্ত কিভাবে হবে উদূপির রাজার বক্তব্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন মহারাজ আপনি একদম ঠিক চিন্তা করেছেন আপনার চিন্তা থেকে আমি বুঝতে পারি আপনার কাছে নিশ্চয়ই এর কোন পরিকল্পনা
আছে যদি তা থেকে থাকে তবে দয়া করে বলুন তারপর উদুপি র রাজা বললেন হে বাসুদেব সত্যি তাই ভাইদের মধ্যে হওয়ায় যুদ্ধকে আমি উচিত বলে মনে করি না
এই কারণেই এই যুদ্ধে ভাগ নেওয়ার আমার কোনো ইচ্ছে নেই কিন্তু এই যুদ্ধ এখন বন্ধ করা যাবে না সেই জন্য আমার এই ইচ্ছা আমি এখানে আমার সমস্ত সৈন্যের সাথে থেকে এখানে উপস্থিত দুইদলের সেনার জন্য খাবার ব্যবস্থা
করব এই বিষয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হেসে বললেন মহারাজ আপনার চিন্তা অতি উত্তম এই যুদ্ধে কমপক্ষে 50 লাখ যোদ্ধা ভাগ নেবে আর যদি আপনার মত একজন দক্ষ রাজা তাদের খাবারের কথা মাথায় রাখেন তবে আমরা এই দিক থেকে নিশ্চিন্ত হতে পারব আমি এটাও জানি এই সাগরের মতো বিশাল সৈন্যের খাবারের ব্যবস্থা করা আপনি এবং ভীম সেন ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব না কিন্তু ভীম সেন এই যুদ্ধ থেকে বিরতি নিতে পারবে না অতএব আমার আপনার কাছে প্রার্থনা আপনি আপনার সেনা শহীদ এই দুই পক্ষের সেনার খাবারের ভার সামলান। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই বক্তব্যে রাজা এই দায়িত্ব নিলেন । প্রথম দিনই তিনি উপস্থিত সমস্ত সৈন্যের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করলেন। রাজার দক্ষতা এমন ছিল দিনের শেষ পর্যন্ত একটাও খাবার নষ্ট হতো না, যেমন যেমন দিন যেতে থাকলো তেমনি আস্তে আস্তে যোদ্ধার সংখ্যা কমতে লাগলো। সবাই এটা দেখে আশ্চর্য হয়ে যেত যে উদুপির রাজা ঠিক ততগুলি সৈন্যের জন্য খাবার প্রস্তুত রাখতেন যতগুলি বাস্তবে বেঁচে থাকতো কিন্তু কেউ এটা বুঝতে পারত না যে রাজা কিভাবে বুঝতে পারতেন যে আজ এত জন সৈনিক মারা যাবে যাতে তার উপর ভিত্তি করে খাবারের বন্দোবস্ত করা যায়। এত বড় সৈন্যের জন্য খাবার বন্দোবস্ত করাটাই এটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার তারপর এমন ভাবে বন্দোবস্ত করা হতো যাতে দিনের শেষ পর্যন্ত একটা অন্যের দানাও নষ্ট না হয় এটা কোন চমৎকার এর থেকে কম ছিল না। 18 দিন পর যখন যুদ্ধ শেষ হলো পাণ্ডব বিজয়ী হলেন নিজের রাজ্য অভিষেকের দিন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির আর সহ্য করতে পারলেন না তিনি রাজাকে জিজ্ঞাসা করেই ফেললেন হে মহারাজ সমস্ত দেশের রাজা আমাদের প্রশংসা করছেন কিভাবে আমরা কম সেনা হওয়া সত্বেও জয় লাভ করেছি। যার নেতৃত্ব গুরু দ্রোণাচার্য , ভীষ্ম এবং আমাদের বড় ভাই কর্ণ করছিলেন কিন্তু আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি প্রশংসার পাত্র আপনি যে কেবল শুধুই এত বড় বিশাল সৈন্যের জন্য খাবার আয়োজন করেছেন এবং এমন আয়োজন করেছেন যাতে খাবারের একটি দানা নষ্ট না হয় আমি আপনার এই দক্ষতার রহস্য জানতে চাই। এই বক্তব্যের রাজা হাসিমুখে বললেন সম্রাট আপনি যে এই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন তার সম্মান আপনি কাকে দেবেন তখন যুধিষ্ঠির স বললেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর কেউই এই সম্মানের ভাগীদার নয় যদি তিনি থাকতেন তবে কৌরব সেনাদের পরাজিত করা অসম্ভব ছিল তখন রাজা বললেন হে মহারাজ আপনি যেটাকে আমার চমৎকার বলছেন সেটাও আসলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চমৎকার এই কথা শোনার পর রাজসভায় থাকা প্রত্যেকটি ব্যক্তি চমকে উঠলেন। তখন রাজা এই রহস্য সবাইকে বললেন হে মহারাজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রতিদিন রাতে বাদাম খেতেন আমি প্রতিদিন তার শিবিরে গুণে গুণে বাদাম রেখে দিতাম বাসুদেবের খাবার পর আমি সেই বাদাম গুনে দেখতাম তিনি কতগুলি বাদাম খেয়েছেন তিনি যতগুলি বাদাম খেয়ে ফেলতেন ঠিক তার পরের দিন তত হাজার গুণ সৈনিক মারা যেত অর্থাৎ তিনি যদি পঞ্চাশটি বাদাম খেয়ে ফেলতেন তাহলে আমি বুঝে নিতাম আগামী দিন 50000 সৈনিক যুদ্ধে মারা যাবে সেই অনুপাতে পরেরদিন খাবারের বন্দোবস্ত করতাম যে কারণেই কোনদিনও খাবার নষ্ট হয়নি ।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই চমৎকার এর কথা শুনে সবাই তার সামনে মাথা নিচু করলেন ।এই বর্ণনা মহাভারতের সবচেয়ে দুর্লভ বর্ণনার মধ্যে একটি কর্নাটকে উপস্থিত কৃষ্ণ মঠে এই কথা প্রতিদিন শোনানো হয় এমনটা মনে করা হয় যে এই মঠের প্রতিষ্ঠা উদুপি রাজার দ্বারাই করা হয়েছিল


